নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরা সরকারের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেছেন। মোট বাজেটের আকার ৩৪,২১২.৩১ কোটি টাকা—যা গত বছরের তুলনায় ৫.৫২ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বাজেট সুষম উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও জনসেবা উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।
অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছে ৮,৯৪৫.৯২ কোটি টাকা, যা গত বাজেটের চেয়ে ১৩.১৯ শতাংশ বেশি। স্বাস্থ্য খাতে ২,৪৪১.৫০ কোটি টাকা (২৫.২৯ শতাংশ বৃদ্ধি), গ্রামীণ উন্নয়নে ৪,০৯৪.৫৭ কোটি টাকা (১৭.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি) এবং শিক্ষায় ৬,৪৩৯.৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষি খাতে বরাদ্দ ১,৯৮৫.৬১ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই বাজেটে কোনো নতুন কর আরোপ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য খাতে বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। ধলাই জেলা হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক, তেলিয়ামুড়া-খোয়াই-বিশ্রামগঞ্জে ট্রমা কেয়ার সেন্টার এবং বিভিন্ন জেলায় নতুন মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ গড়ে তোলা হবে। এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালে হিমোফিলিয়া-থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার এবং উনকোটিতে ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। “সুপ্রজা” প্রকল্পের আওতায় শান্তিরবাজারে আয়ুষভিত্তিক মাতৃসেবা চালু হবে। গোমতী জেলায় আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও আগরতলায় হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হবে।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে “ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি” এবং “ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট উইমেন্স ইউনিভার্সিটি” গড়ে তোলা হবে। পর্যটন, স্টার্টআপ ও আইটি খাতেও বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—ডুম্বুরে ইকো-ট্যুরিজম, আগরতলায় “এআই সিটি” এবং প্রতিটি জেলায় স্টার্টআপ হাব স্থাপনের ঘোষণা করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে সর্বস্তরের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।” বাজেট পাসের পর এখন বিভাগীয় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
