নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘সঙ্কটাপন্ন’ বলে আখ্যায়িত করে কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযোগপত্র পেশ করেছে। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী জানান, সরকারের নীতি ও প্রকল্পগুলি জনকল্যাণের পরিবর্তে নির্বাচনী লাভ এবং ধনী ১ শতাংশের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীভূত।
এই অভিযোগের পটভূমি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ, যেমন দ্রব্যমূল্যের উত্থান এবং বেকারত্বের বৃদ্ধি। চক্রবর্তী বলেন, “১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ বিহার নির্বাচনকে লক্ষ্য করে জালিয়ানওয়ালাবাগের মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ভরা ছিল। সাড়ে তিন কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি বা দীপাবলিতে জিএসটি ছাড়—সবই জনমোহিনী প্রচারণা।” তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার ত্রৈমাসিক রিপোর্টে বেকারত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা কর্মসংস্থান সংকটকে আরও গভীর করেছে।
কংগ্রেস নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, জিএসটি ছাড়ের ঘোষণা সত্ত্বেও ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে, টাটা গ্রুপকে সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পে ৪৪,২০৩ কোটি টাকা মূলধন অনুদানের চার সপ্তাহের মধ্যে সেই গ্রুপ বিজেপির কেন্দ্রীয় তহবিলে ৭৫৮ কোটি টাকা দান করেছে। চক্রবর্তী এটিকে ‘কর্পোরেট-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন।
এই সমালোচনা ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত রাজ্যে। প্রবীর চক্রবর্তী মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনে সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এর ফলে ত্রিপুরায় বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়তে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করবে। এটি জাতীয় রাজনীতিতে অর্থনৈতিক অসমতুল্যতার বৃহত্তর তাৎপর্য তুলে ধরে, যা সরকারের নীতির পুনর্মূল্যায়নের দাবি জোরদার করতে পারে।
