নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরা কৃষি দপ্তর এবং নাগপুরের ন্যাশনাল ব্যুরো অফ সয়েল সার্ভে (এনবিএসএস)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য রাজ্যের চাষযোগ্য জমির গভীর গবেষণা পরিচালনা করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।
কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ প্রজ্ঞা ভবনে ভূ-স্থানিক কৌশল ব্যবহার করে ভূমি সম্পদ তালিকা বিষয়ক কর্মশালা উদ্বোধন করে এই ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য প্রথমেই দরকার জমি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য ও গবেষণা। জমি হলো কৃষির মূল উপাদান; এরপর আসে বীজ, জল এবং বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ।” পূর্বে দক্ষিণ ও গোমতি জেলায় জরিপ সম্পন্ন হয়েছে, এবং এখন উত্তর, ধলাই ও উনাকোটি জেলায় ফোকাস করা হচ্ছে। পশ্চিম, সিপাহিজলা এবং খোয়াই জেলা পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারগুলো এই ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। “আমি ৩০ বছরের বেশি সময় রাজনীতিতে আছি। পূর্বের সময়ে খাদ্যমন্ত্রী বা কৃষিমন্ত্রীরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা প্রসঙ্গে কথা বললেও তা স্পষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়নি।” মাটিবিজ্ঞানীরা জানাবেন কোন মাটিতে পাম অয়েল, রাবার, মিলেট বা ধানের মতো ফসল চাষ সম্ভব। এই গবেষণা চাষিদের সহায়ক পরিকল্পনা প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের সচিব অপূর্ব রায়, অধিকর্তা ফণী ভূষণ জামাতিয়া এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, সরকারের সময়ে খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্লকের সংখ্যা ২২ থেকে ৩০-এ উন্নীত হয়েছে, এবং এই বছর আরও ৫টি যুক্ত হবে।
এই সমঝোতা ত্রিপুরার টেকসই কৃষি বিকাশে মাইলফলক হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে আরও কৃষি পণ্যে জিআই ট্যাগিং প্রাপ্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা রাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
