ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য দিবস উদযাপন: ঐক্য ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

2 Min Read
নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য দিবস উপলক্ষ্যে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা জাতি-জনজাতির ঐক্যের মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উপর জোর দেন। এই অনুষ্ঠানে ৬ জনকে রাজ্য নাগরিক পুরস্কার এবং ১১ জনকে স্টেটহুড ডে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতি জনজাতির ঐক্যের বন্ধনকে সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়েই রাজ্যের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব।” তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছাবার্তা পড়ে শোনান এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। পুরস্কারপ্রাপকদের মধ্যে ত্রিপুরা বিভূষণ সম্মান প্রয়াত ধীরেন্দ্র চন্দ্র দত্তকে (মরণোত্তর), ত্রিপুরা ভূষণ সম্মান প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেনকে (মরণোত্তর) এবং বিপ্লব গোস্বামীকে প্রদান করা হয়। স্টেটহুড ডে অ্যাওয়ার্ডে কৃষি, মৎস্য, শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ১৯৪৭ সালে মহারাজা বীরবিক্রম মাণিক্যের প্রয়াণের পর মহারাণী কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। ১৯৪৯ সালের ১৫ অক্টোবর ত্রিপুরা ভারত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৭২ সালের ২১ জানুয়ারি পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা লাভ করে। ২০১৮ সালের পর রাজ্য সরকার কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধন করেছে, যার ফলে জি.এস.ডি.পি.-তে উত্তর-পূর্বের দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। মহিলা স্বনির্ভরতায় ১ লক্ষ ৮ হাজার লাখপতি দিদি গড়ে উঠেছে।
মুখ্যসচিব জে.কে. সিনহা বলেন, “পি.এম. জনমনে ভালো কাজের জন্য ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ রাজ্য হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে।” অনুষ্ঠানে মন্ত্রীগণ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই দিবস রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়নের লক্ষ্যকে পুনরুদ্দীপ্ত করে। ভবিষ্যতে সরকারের দায়বদ্ধতা রাজ্যকে আরও আত্মনির্ভর করে তুলবে, যা উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠবে।
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version