ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির ছায়া: কংগ্রেস বিধায়কের তীব্র অভিযোগ, তদন্তের দাবি

2 Min Read

নিউজ ডেস্ক || ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক গঙ্গা প্রসাদ প্রসাইন এবং রেজিস্ট্রার ড. দীপক শর্মার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে চিঠি দিয়েছেন ত্রিপুরার কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গর্বিত ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করেছে।

চিঠিতে সুদীপবাবু দাবি করেছেন, গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। যোগ্য স্থানীয় প্রার্থীদের বঞ্চিত করে বাইরের রাজ্য থেকে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, উপাচার্য নিজেই নিজের ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ দিয়েছেন, যা সরাসরি স্বজনপ্রীতির উদাহরণ। এছাড়া, আরএসএস ও বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সুপারিশে বাইরের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞাপন জারি হওয়া সত্ত্বেও এবং বর্তমান উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হলেও, অধ্যাপক প্রসাইন এবং রেজিস্ট্রার শর্মা আগামী ৮ ও ৯ জুন সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃত ও আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ ডেকেছেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন সুদীপবাবু।

তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে অবিলম্বে বরখাস্ত করে গত এক বছরের নিয়োগ, চুক্তি স্বাক্ষর ও উচ্চমূল্যের কেনাকাটার বিষয়ে স্বাধীন ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং স্থানীয় থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছে।

সুদীপ রায় বর্মন প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও সরকার কীভাবে এমন দুর্নীতি সহ্য করতে পারেন? ত্রিপুরার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ কি দুর্নীতির বলি হবে?” ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় আলোচনা হলেও, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনগণের আস্থা আরও ক্ষুন্ন হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ শিক্ষার্থী ও জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তদন্তই পারে এই প্রতিষ্ঠানের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version