পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ও দলীয় কোন্দলের জল্পনার মধ্যেই দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজধানীর ১০ নম্বর জনপথে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে জাল সই সংক্রান্ত একটি দুর্নীতির ঘটনায় সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আইনি সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, কলকাতা বিমানবন্দরে নামলেই কিংবা দিল্লি থেকেই যে কোনও মুহূর্তে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেকের বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, সম্ভাব্য আইনি জটিলতা মোকাবিলা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলতেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও ভাঙনের জল্পনা উসকে উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে, দলের সংসদীয় শাখার একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অমান্য করে পৃথকভাবে দলনেতা ও মুখ্য সচেতক নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের মধ্যেও বিভাজনের ইঙ্গিত মিলছে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি, রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের খবরও নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।
অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ না হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সমীকরণ বদলাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জল্পনা, সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উল্লিখিত বেশ কয়েকটি দাবি এখনও সরকারি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিষয়গুলির সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
