নিউজ ডেস্ক || আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে আগরতলা শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং পুণ্যার্থীদের জন্য সুবিধাজনক করে তুলতে বদ্ধপরিকর আগরতলা পুর নিগম। পূজার আগেই শহরের চলমান ড্রেন ও রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে জোরদার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়াও শহরের সৌন্দর্যায়ন, আলোকসজ্জা এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে আজ মঙ্গলবার পুর নিগমের মেয়র দীপক কুমার মজুমদারের পৌরহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেয়র জানান, পূজার সময় পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য রাস্তাঘাটে চলাচল ও যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শহরকে আলোকিত করতে অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানকে আরও মনোরম করতে দশমী ঘাটসহ অন্যান্য ঘাটগুলিতে সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। এই সময় কোনো সাউন্ড বক্স বাজানোর অনুমতি থাকবে না; মায়ের গমন অনুষ্ঠান উলুধ্বনি ও ঢাকের আওয়াজে সম্পন্ন হবে।
মেয়র আরও জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও পুর নিগমের উদ্যোগে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ পূজা মণ্ডপগুলিকে পুরস্কৃত করা হবে। এজন্য নিরপেক্ষ বিচারক মণ্ডলী গঠন করা হয়েছে। চারটি জোনালে চারটি বিষয়ের উপর শ্রেষ্ঠ ক্লাবগুলিকে সুদৃশ্য ট্রফি ও ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়াও, সারা শহরে পাঁচটি বিষয়ের উপর বিবেচনা করে সেরার সেরা পাঁচটি ক্লাবকে ৫০ হাজার টাকা ও ট্রফি প্রদান করা হবে। মোট ২১টি ট্রফি ও আর্থিক পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
পূজা মণ্ডপগুলিতে এইডস প্রতিরোধ ও সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে বার্তা প্রচারের জন্য ক্লাবগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র। তিনি ক্লাবগুলিকে রেজিস্ট্রেশন করানোর পরামর্শও দিয়েছেন। পূজার সময় শহরকে যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ষষ্ঠী থেকে প্রতিটি ক্লাবে সাফাই কর্মী, ব্লিচিং পাউডার ও আবর্জনা অপসারণের জন্য অতিরিক্ত গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে।
দশমী ঘাটে প্রায় ৩০০টি প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য ৫০ জন ঢাকী নিয়োগ করা হবে। শহর সংলগ্ন ১৩টি ঘাটে বাকি প্রায় ৩০০টি প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হবে। এই সময় কোনো বাদ্যযন্ত্র বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না। মেয়র সকলকে দায়িত্বশীলভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
