২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী এই দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
এই নির্বাচনে মূল লড়াই কার্যত সীমাবদ্ধ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল একদিকে, অন্যদিকে বিজেপি নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে ক্ষমতার দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছে। একসময়ের প্রভাবশালী সিপিএম ও কংগ্রেস বর্তমানে প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বিভিন্ন সমীক্ষা, বিশেষ করে আনন্দবাজার পত্রিকা ও CNN-News18-এর ইঙ্গিত অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকতে পারে। সম্ভাব্য হিসেবে তারা প্রায় ১৬১টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিজেপি পেতে পারে ১২৪টি আসন। তবে ভোট শতাংশের ব্যবধান মাত্র ৩ শতাংশ হওয়ায় লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি।
এবারের নির্বাচনে নাগরিকত্ব ও অনুপ্রবেশ ইস্যু বড় ভূমিকা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়কে জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। অপরদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের রক্ষাকবচ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি বাঙালি পরিচয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। বিরোধীদের দাবি, এতে সংখ্যালঘু ভোটারদের ওপর প্রভাব পড়েছে, যদিও নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক বলেই দাবি করেছে।
ভোটারদের মনোভাবেও বিভাজন স্পষ্ট। মুসলিম ভোটারদের বড় অংশ তৃণমূলের দিকে ঝুঁকছে, অন্যদিকে তরুণ ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মধ্যে বিজেপির প্রভাব বাড়ছে। মহিলা ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের সামাজিক প্রকল্পগুলো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠন নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক আদর্শ ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে। আগামী দফার ভোটগ্রহণ ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে আরও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেবে।
