পশ্চিম ত্রিপুরার উন্নয়নে নতুন গতি, জেলা পরিষদের সভায় মন্ত্রীর পর্যালোচনা

2 Min Read

পশ্চিম ত্রিপুরার সামগ্রিক উন্নয়নে জেলা পরিষদের সাধারণ সভায় মন্ত্রী রতন লাল নাথ

নিউজ ডেস্ক || পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ জেলা পরিষদের সাধারণ সভায় যোগ দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পর্যালোচনা করেন। সভায় জেলার চলমান প্রকল্পগুলির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, এই ধরনের সভা জেলার উন্নয়নে গতি সঞ্চার করবে এবং সরকারি দপ্তরগুলির কার্যক্রমে নতুন উদ্যম যোগাবে।
সভায় কৃষি, সড়ক ও সেতু (PWD), স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা সহ বিভিন্ন দপ্তরের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, প্রতি তিন মাস অন্তর অনুষ্ঠিত এই সভা উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান এবং আমন্ত্রিত বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, জেলা পরিষদ গ্রামীণ সরকারের মন্ত্রিসভা হিসেবে কাজ করে এবং এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। তিনি জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ টিটিএএডিসি, জেলা পরিষদ ও কর্পোরেশনগুলির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, যা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহের ক্ষেত্রে মন্ত্রী জানান, পশ্চিম ত্রিপুরার প্রায় ৯৪ শতাংশ পরিবারের ঘরে পানীয় জলের সংযোগ রয়েছে। তিনি ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশন (TRLM) এবং গ্রামীণ সম্পদ সহায়কদের (GRS) নির্দেশ দেন, একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে, যাতে জল সংযোগ ও সরবরাহের সঠিক চিত্র পাওয়া যায়।
এছাড়াও, সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও স্মার্ট মিটার চালু করা হবে। এর ফলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খরচ মূল্যায়ন আরও সহজ হবে।
কৃষি ক্ষেত্রে, পি এম কুসুম প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে ১০,০০০ জল সেচ সুবিধা স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতিমধ্যে ৫,২০০টি সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিম ত্রিপুরায় ১,১১৬ জন কৃষক এই সুবিধা পেয়েছেন এবং আরও ৩০০ জনের জন্য কাজ চলছে।
মন্ত্রী রতন লাল নাথ আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগগুলি পশ্চিম ত্রিপুরার উন্নয়নে নতুন দিশা প্রদান করবে এবং জেলার জনগণের জীবনমান উন্নত করবে।
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version