পাকিস্তানে ১২৫ বছরের ঐতিহাসিক শিখ গুরুদ্বারা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়

2 Min Read

অবৈধ ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তাল ফারুকাবাদ; তদন্ত ও পুনর্নির্মাণের আশ্বাস প্রশাসনের, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেরামতের দাবি ভারতের

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফারুকাবাদ এলাকায় প্রায় ১২৫ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক শিখ গুরুদ্বারা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গুরুদ্বারাটি ধ্বংসের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে সামিল হন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, এক ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কোনো বৈধ অনুমতি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ঐতিহাসিক এই ধর্মীয় স্থাপনাটি ভেঙে ফেলেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় শিখ সম্প্রদায় প্রতিবাদে সরব হওয়ার আগে পর্যন্ত প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি।

ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদের মুখে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে পাঞ্জাবের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী রমেশ সিং আরোরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত গুরুদ্বারাটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, ঘটনাটির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণদীপ জয়সোয়াল এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে ইসলামাবাদকে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঐতিহাসিক গুরুদ্বারাটি দ্রুত সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version