ধসে বন্ধ সিকিমের লাইফলাইন, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক
প্রবল বর্ষণের জেরে পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সীমান্তে সিংথামের ১৯ মাইল ও ২০ মাইল এলাকায় বড়সড় ধস নেমেছে। এর ফলে সিকিমের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সমতলের সঙ্গে সিকিমের সংযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও পর্যটক—উভয়ই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
ধসের কারণে সিকিম ও দার্জিলিংগামী যানবাহনকে আগে লাভা-লোলেগাঁও হয়ে বিকল্প পথে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হলেও, বর্তমানে জলপাইগুড়ি জেলার বাগড়াকোট লুপ ব্রিজ এলাকাতেও ধস দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমেছে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় জেসিবি মেশিন দিয়ে ধসের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে পর্যটন শিল্প। বনদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান তিন মাসের জন্য বন্ধ থাকায় পর্যটকদের চাপ ছিল পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে। তার মধ্যেই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বহু পর্যটক বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়েছেন। ফলে পাহাড় থেকে সমতলে নামা এবং সমতল থেকে পাহাড়ে যাওয়া—দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও বালাসা নদীর অস্থায়ী সেতু ভেঙে যাওয়ায় শিলিগুড়ির সঙ্গে সিকিমের যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল। প্রতি বর্ষায় একই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জোরালো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে জনজীবন ও পর্যটন শিল্পকে বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়তে না হয়।
