ফকিরমুড়ায় মা সৌন্দর্য চিন্ময়ী মন্দিরের উদ্বোধন: আধ্যাত্মিকতা ও সেবার মিলনে নতুন যুগের সূচনা

2 Min Read
নিউজ ডেস্ক || পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোহনপুর মহকুমার ফকিরমুড়া গ্রামে ২১ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার আদি শঙ্করাচার্যের পুণ্য তিথিতে ‘মা সৌন্দর্য চিন্ময়ী মন্দির’-এর শুভ উদ্বোধন হয়েছে। একইসঙ্গে চিন্ময় মিশনের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী ও আধ্যাত্মিক আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ত্রিপুরার রাজমাতা বিভু কুমারী দেবী ভারতের চিরন্তন ঐক্যের বার্তা দিয়ে বলেন, “আমাদের মধ্যে বিবিধতা থাকতে পারে, কিন্তু সকলের মাতৃভূমি এক—এই ভারতবর্ষ।” ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক শ্রী মোহন ভাগবতের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মন্দিরের স্থাপত্যশৈলীর প্রশংসা করে বলেন, “এই মন্দির সমগ্র ভারতবাসীর জন্য আধ্যাত্মিকতার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে।” তিনি চিন্ময়া হরিহরা বিদ্যালয়ের বিনামূল্যে শিক্ষাদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল শ্রী জিষ্ণু দেববর্মণ বৈদিক দর্শন তুলে ধরে বলেন, “প্রত্যেক বিদ্যালয়ই একেকটি মন্দির।” তিনি ‘একম সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্তী’ মন্ত্র উল্লেখ করে শিক্ষায় ধর্মের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। চিন্ময় মিশনের স্বামী বিজ্ঞানন্দ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রধান স্বামী মিত্রানন্দ মহারাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেন।
ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি সীমান্তবর্তী রাজ্যে মন্দির ও বিদ্যালয় স্থাপনকে সমাজসংস্কারমূলক প্রয়াস বলে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানের মুখ্য আকর্ষণ শ্রী মোহন ভাগবত জ্ঞান ও বোধের পার্থক্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “বিশ্ব আজ বুঝতে পারছে—সনাতন ধর্মের জীবনদৃষ্টিই একমাত্র পথনির্দেশ।” তিনি মন্দিরকে সমাজজীবনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করে বহিঃশক্তির বিভেদ সৃষ্টির প্রয়াসের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এই অনুষ্ঠান শিক্ষা, আধ্যাত্মিকতা ও দেশপ্রেমের অনন্য সমন্বয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের কাছে এটি এক মহান পাথেয় হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version