ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অসাম্য কমাতে দ্বিপাক্ষিক Comprehensive Economic Partnership Agreement (CEPA) কার্যকর করার উদ্যোগে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশের সরকার। কয়েক বছর ধরে স্থগিত থাকা এই প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে একটি লিখিত বিবৃতি উপস্থাপন করেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম। বিবৃতিতে ভারতের সঙ্গে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সরকারের মতে, সিইপিএ কার্যকর হলে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ভারতের বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪/২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১,১৩৮ কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১৭৬ কোটি ৪২ লাখ ৩ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৯০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য, যার ফলে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ একদিকে চীনের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণ করছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি বাংলাদেশের আঞ্চলিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সিইপিএ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


