ট্রাম্পের কঠোর বার্তা, ইরানের অনড় অবস্থান—হরমুজে ড্রোন হামলায় নতুন করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চললেও পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। ‘অপারেশন এপিকউরি’ নামে পরিচিত অভিযানে পেন্টাগন ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পর একাধিকবার যুদ্ধবিরতির আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান সামনে আসেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সামরিক পদক্ষেপ ছাড়া অন্য কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না। তার ভাষ্য, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সফল হতো, তবে তা গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াত।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওমানের দাহিট বন্দরের কাছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরান-সমর্থিত বাহিনীর ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই হামলার ফলে প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইল এখন আর পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং প্রয়োজনে তারা নিজেরাই সামরিকভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা সফল হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


