নিউজ ডেস্ক || বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ১২তম রাষ্ট্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নীতিন নবীন। মঙ্গলবার দিল্লিতে পার্টির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং তাকে মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান।
নীতিন নবীন গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে বিজেপির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে তিনি পূর্ণকালীন সভাপতির পদে উন্নীত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রায় ৫৫ মিনিটের ভাষণে দলের সংস্কৃতি ও সংগঠনের আদর্শ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিজেপি এমন একটি দল যেখানে একজন কর্মীও সর্বোচ্চ দায়িত্বে পৌঁছাতে পারে। আমি নিজে বিজেপির একজন কর্মী। আজ নীতিনজি আমার বস—তিনি আমার কাজের মূল্যায়ন করবেন।” এই বক্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ও কর্মীভিত্তিক রাজনীতির বার্তা বহন করে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
নতুন সভাপতি নীতিন নবীনও তার বক্তব্যে দলের আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য যেখানে রাজনীতি ক্ষমতার ভোগ নয়, বরং ত্যাগের সাধনা। রাজনীতি কোনও পদ নয়, এটি একটি দায়িত্ব—একটি তপস্যা।” বিজেপি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে ধনী রাজনৈতিক দল, যার তহবিলে ১০,১০৭ কোটি টাকারও বেশি রয়েছে। দলের ৭৭২টি জেলায় নিজস্ব জমি ও অফিস আছে, এবং প্রায় ১৮ কোটি সদস্যের সাথে ২০টি রাজ্যে সরকার গঠন করেছে। বিশ্লেষকরা বিজেপিকে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক যন্ত্র হিসেবে দেখেন।
নীতিন নবীনের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। ২০২৬–২৭ সালে উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও কেরালার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই রাজ্যগুলিতে দলের অবস্থান মজবুত করা এবং সংগঠনকে একসূত্রে বাঁধাই হবে তার প্রধান দায়িত্ব। এই নির্বাচন বিজেপির জাতীয় প্রভাবকে আরও প্রসারিত করতে পারে।
