বিশালগড়ের ঐতিহ্যবাহী মন্দিরকে পর্যটন কেন্দ্র করার ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

2 Min Read

বিশালগড় প্রতিনিধি: প্রায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মন্দিরকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণের বার্তা দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী। মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে, আনুমানিক ১০০ বছর আগে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়া প্রায় ১৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষরা মায়ের বিগ্রহ বিশালগড়ে নিয়ে এসেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মন্দিরটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে মন্দিরটিকে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সমগ্র ত্রিপুরায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আধ্যাত্মিক চর্চার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের সমালোচনা করে বর্তমান সময়কে ‘আস্তিকতার পরিবেশ’-এর যুগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “বিকাশও, বিরাসতও” দর্শনের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থানের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি অযোধ্যার রাম মন্দির, বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ ধাম করিডোর, কোয়েম্বাটুরের আদিযোগী শিবের মূর্তি এবং উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ ধামের পুনর্নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

এছাড়াও তিনি জানান, ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান উদয়পুরের মাতাবাড়ি তথা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের উন্নয়নে কেন্দ্র সরকারের ‘প্রসাদ’ প্রকল্প থেকে ৩১ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকারের ১৭ কোটি টাকা ব্যয় করে আধুনিক ও ভব্য রূপ প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশালগড়ের বিধায়ক সুশান্ত দেব, পার্শ্ববর্তী বিধানসভার বিধায়িকা অন্তরা দেব সরকার, মায়াপুর ইসকনের পূজনীয় নিত্য গোপাল গোস্বামী মহারাজ এবং মন্দির কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তারা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version