বৃষ্টির ঘাটতি, তীব্র গরমের আশঙ্কা—২০২৬ কি হতে চলেছে খরার বছর?

2 Min Read

দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়াবিদদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগে যেখানে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৯২ শতাংশ বলে জানানো হয়েছিল, সেখানে নতুন জলবায়ু মডেলে তা কমে প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর দ্রুত হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ক্ষেত্রে। ভারতের অর্ধেকেরও বেশি কৃষিজমি সরাসরি বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দিলে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৬ সালকে সম্ভাব্য “খরার বছর” হিসেবেও চিহ্নিত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে, ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠায় ভারতে তীব্র গরমের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ুও দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জুন মাস জুড়ে দেশের একাধিক রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় ধরে তাপপ্রবাহ বা ‘লু’ বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, বিহার, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কেরালায় সাধারণত ২৬ মে বর্ষা প্রবেশ করলেও এবার কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তরের আশা, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই কেরালায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটবে এবং এরপর ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অংশেও বর্ষা বিস্তার লাভ করবে।

তবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য ঘাটতি ও তীব্র গরমের পূর্বাভাসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কৃষি, জলসম্পদ এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version