রাজ্যের নানা ইস্যুতে সরকারের তীব্র সমালোচনা জিতেন চৌধুরীর

2 Min Read

আগরতলা, ১২ জুন: তিপ্রামথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অনিয়ম, কর্মচারীদের বেতন সমস্যা, শিক্ষা ব্যবস্থা, জাতীয় সড়কের দুরবস্থা এবং ৭২ ঘণ্টার বন্ধের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শানালেন বিরোধী দলনেতা জিতেন চৌধুরী।

প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা সম্প্রতি দাবি করেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ত্রিপুরার জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জিতেন চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রদ্যোত কিশোরের রাজনৈতিক অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হয়। তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরায় থাকাকালীন তিনি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে জনজাতি ও এডিসির উন্নয়ন না হওয়ার অভিযোগ তুললেও, দিল্লিতে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলেন।

এদিন তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত আমলাকে বছরের পর বছর পুনর্নিয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে আইএএস পদে উন্নীত করার বিষয়টি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে জিতেন চৌধুরী বলেন, রাজ্যের বহু কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে আন্দোলনরত অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের দাবি-দাওয়া মেটাতে সরকারের ব্যর্থতারও সমালোচনা করেন তিনি।

শিক্ষা ক্ষেত্রেও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী কর্মরত নন-টেট শিক্ষকদের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বহু শিক্ষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের দাবি জানান।

রাজ্যের জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের, বিশেষত খোয়াই অংশের দুরবস্থাকে “জাতির কলঙ্ক” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সড়ক নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাজের মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সবশেষে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গীদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মসূচি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টির দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।

রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলনেতার এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version