নিউজ ডেস্ক || দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে প্রচারিত শেখ হাসিনার প্রায় এক ঘণ্টার অডিও বক্তব্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এই বক্তব্যে বাংলাদেশকে ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ এবং ‘মৃত্যু উপত্যকা’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি ইউনূসকে ‘খুনি ফ্যাসিবাদী’, ‘সুদখোর’ এবং ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তার প্রশাসনকে দেশের বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী করেন। হাসিনার অভিযোগ, ইউনূসের ষড়যন্ত্রে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, এবং বর্তমানে দেশে আইনশৃঙ্খলাহীনতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বিরাজ করছে।
বক্তব্যে হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘পুতুল সরকার’ উৎখাত করতে। তিনি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন: ইউনূস প্রশাসন অপসারণ, সহিংসতা অবসান, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্ত। বিএনপিকেও আক্রমণ করে তিনি বলেন, তার শাসনামলে কখনও তাদের নিষিদ্ধ করা হয়নি, কিন্তু বর্তমান সরকার নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা করেছে।
এই বক্তব্যের প্রভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ আরও জটিল হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা, এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন ইউনূস প্রশাসন হাসিনার বক্তব্য বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ বাড়তে পারে, এবং হাসিনার আহ্বান দেশের রাজনৈতিক গতিপথকে নতুন মোড় দিতে পারে। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
