সিন্ধু নদীর জল বণ্টন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের তরফ থেকে ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে সিন্ধু নদীর জল প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার সম্ভাব্য বার্তার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
খাজা আসিফ বলেছেন, সিন্ধুর জল পাকিস্তানের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। এই প্রশ্নে ইসলামাবাদ কোনো ধরনের আপস করবে না এবং প্রয়োজন হলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতেও পিছপা হবে না। তাঁর বক্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবস্থা মূলত সিন্ধু নদীর জলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জল প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে দেশটিতে ভয়াবহ জলসংকট দেখা দিতে পারে। কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ পাকিস্তানের এই যুদ্ধের হুমকিকে ‘ফাঁকা আওয়াজ’ হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। অনেকের ধারণা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতেই এ ধরনের কড়া বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে পাকিস্তান বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালত এবং রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সুরাহা পায়নি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পাকিস্তান কোনো ধরনের উসকানি বা বাড়াবাড়ি করলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তবে খাজা আসিফের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
সিন্ধুর জলকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া এই নতুন উত্তেজনা আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
