পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তানের পাল্টা অভিযান, সীমান্তে চরম উত্তেজনা
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত রবিবার রাতে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী খাইবার অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং আফগানিস্তানের পাকতিয়া, চমকানি ও কুনা জেলার বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বিমান হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
কাবুল সরকারের দাবি, এই হামলায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৩৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া বহু ঘরবাড়ি ও একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর আফগানিস্তানের তালিবান সরকার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দেয়। পরে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, তারা পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের সহায়তায় পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, অভিযানে ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে অবস্থিত ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএসআইএস-কে)-এর একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। কাবুলের অভিযোগ, পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই জঙ্গিগোষ্ঠী আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে আসছিল। অভিযানে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে এবং বহু জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ।
তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ ও আফগানিস্তানের পাল্টা হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের ফলে ডুরান্ড লাইনজুড়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। স্বাধীনভাবে সব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
