নিউজ ডেস্ক || আগামী সোমবার বিধানসভায় পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজ্য বাজেট। এই বাজেটকে ঘিরে রাজ্যের শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশা জেগেছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), সপ্তম বেতন কমিশনের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং ভার্মা কমিটির রিপোর্ট নিয়ে তাদের অসন্তোষের মধ্যে এবার সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের কর্মচারীরা ৩৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। গত ১৯ মাসে ধাপে ধাপে ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি হলেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় এখনও ২১ শতাংশ কম। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ডিএ ৩ শতাংশ বেড়ে ৫৩ শতাংশ হয়েছে, যা বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। কর্মচারীদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের সময় সপ্তম বেতন কমিশনের সব সুপারিশ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
২০১৮ সালে অসমের প্রাক্তন মুখ্যসচিব পি.পি. ভার্মার নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রিপোর্ট এখনও জনসমক্ষে আসেনি। অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, ২৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে ১৪ হাজার কোটি টাকাই ব্যয় হয় কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতায়। সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে অতিরিক্ত চাপ নেওয়া কঠিন।
গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করায় রাজ্যেও নতুন আশা জেগেছে, কারণ অধিকাংশ রাজ্য কেন্দ্রীয় কাঠামো অনুসরণ করে। চলতি বাজেট অধিবেশনে ডিএ বৈষম্য, সপ্তম বেতনের বকেয়া এবং অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে বলে কর্মচারী মহল মনে করছে।
এই বাজেট রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা ও কর্মচারীদের দাবির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষা হবে। ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনে কর্মচারী-সরকার সম্পর্ক এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা।
