আগরতলা, ১৪ জুন: ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির ফলে রাজ্যের বাইরে রোগী রেফার করার হার প্রায় ৮০ শতাংশ কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। শনিবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ব্যাপক উন্নয়ন এবং আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার সম্প্রসারণের ফলেই রোগীদের অন্য রাজ্যে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রয়োজন অনেকাংশে কমেছে। তিনি জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় প্রায় ৫৫০টি এমবিবিএস (MBBS) আসন এবং প্রায় ২০০টি স্নাতকোত্তর (PG) চিকিৎসা আসন রয়েছে, যা রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য চিকিৎসা শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
তিনি আরও জানান, নার্সিং শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি একটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, একটি বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতাল এবং টিটিএএডিসি এলাকায় একটি নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন আর শুধু রাজধানী আগরতলাকেন্দ্রিক নয়। জেলা ও মহকুমা হাসপাতালগুলোর আধুনিকীকরণ এবং পরিষেবার মানোন্নয়নের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও ঘরের কাছেই উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন।
এছাড়া রাজ্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং বিভিন্ন সুপার-স্পেশালিটি পরিষেবার সম্প্রসারণের কারণে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাইরের রাজ্যে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রক্তদানের চেয়ে বড় কোনো দান হতে পারে না।” অনুষ্ঠানে নিয়মিত রক্তদাতাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আসাম রাইফেলস আগরতলা ব্যাটালিয়নের জওয়ানরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
স্বাস্থ্য খাতে রাজ্য সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে ত্রিপুরা এখন চিকিৎসা পরিষেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
