ক্রিকেটের মাঠে একসময় ঝড় তোলা তারকা এখন থানের বৃদ্ধসেবা কেন্দ্রে; নিজের মুখেই জানালেন, ভালোবাসা ও যত্ন পাচ্ছেন।
ফের সংবাদ শিরোনামে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলি। থানের নিদান সেন্টার ফর এল্ডারলি কেয়ার থেকে তাঁর একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে কাম্বলিকে ওই কেন্দ্রের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সুযোগ-সুবিধা এবং সেখানে পাওয়া যত্ন ও ভালোবাসার প্রশংসা করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে নিজের পরিচয় দিয়ে কাম্বলি জানান, নিদান সেন্টারে তিনি যথেষ্ট স্নেহ ও যত্ন পাচ্ছেন। কেন্দ্রের পরিবেশও তাঁর ভালো লাগছে বলে জানান তিনি। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
কাম্বলির বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেটমহলে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে একাধিক শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁকে থানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁর চলাফেরা ও স্মৃতিশক্তি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবিও সামনে এসেছে।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে কাম্বলির দীর্ঘদিনের বন্ধু মার্কাস কুটো দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া-কে জানিয়েছিলেন, কাম্বলির স্মৃতিশক্তি নিয়ে সমস্যা রয়েছে। তিনি মদ্যপান বন্ধ করলেও ধূমপানের সমস্যা অব্যাহত ছিল বলেও দাবি করেছিলেন কুটো। একই সময়ে বন্ধু ও প্রাক্তন ক্রিকেটারদের কাছ থেকে কাম্বলি সহায়তা পাচ্ছেন বলেও জানা যায়। অন্যদিকে, কাম্বলির স্ত্রী আন্দ্রেয়া হিউইট অতীতে তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে প্রকাশিত কিছু তথ্যকে ভুল বলে দাবি করেছিলেন।
একসময় ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটার হিসেবে পরিচিত ছিলেন কাম্বলি। ভারতের হয়ে তিনি ১৭টি টেস্ট এবং ১০৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।
টেস্টে তাঁর সংগ্রহ ১,০৮৪ রান, যার মধ্যে রয়েছে চারটি শতরান। ওয়ানডেতে করেছেন ২,৪৭৭ রান, সঙ্গে রয়েছে দুটি শতরান ও ১৪টি অর্ধশতরান।
১৯৯৩ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ে ২২৪ রান করার পর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ২২৭ রান করেন কাম্বলি। পরপর দুটি টেস্টে দ্বিশতরান করে তিনি নিজের প্রতিভার অসাধারণ পরিচয় দিয়েছিলেন।
২০০০ সালে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শেষ হয়। এরপরও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন তিনি এবং ২০০৪ সালে শেষ ঘরোয়া ম্যাচ খেলেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর সংগ্রহ ৯,৬৬৫ রান, সর্বোচ্চ ২৬২।
কাম্বলির ক্রিকেটজীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছে সচিন তেন্ডুলকরের নাম। মুম্বইয়ের এই দুই ক্রিকেটার ছোটবেলা থেকেই বন্ধু এবং বিখ্যাত কোচ রমাকান্ত আচরেকরের কাছে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
স্কুল ক্রিকেটে শারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরের হয়ে তাঁদের ব্যাটিং জুটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করে। একটি স্কুল ম্যাচে তেন্ডুলকর ও কাম্বলি মিলে ৬৬৪ রানের ঐতিহাসিক পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। সেই ইনিংসে কাম্বলি অপরাজিত ৩৪৯ রান করেছিলেন।
তেন্ডুলকর ১৯৮৮ সালে মুম্বইয়ের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক করেন। এক বছর পর, ১৯৮৯ সালে কাম্বলিও মুম্বইয়ের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রাখেন।
কাম্বলির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে ভারত শুরুতে ভালো অবস্থানে থাকলেও সচিন তেন্ডুলকর আউট হওয়ার পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে।
১২০ রানের মধ্যে আট উইকেট হারিয়ে ভারতের রান তাড়া কার্যত ভেঙে পড়ে। মাঠে দর্শকদের বিশৃঙ্খলার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ম্যাচ শেষে কাম্বলির চোখে জল ধরা পড়ে। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর সেই কান্নার ছবি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্য হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
নিদান সেন্টার থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ভিডিওটি কাম্বলির ক্রিকেটজীবনের পুরনো স্মৃতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্র তাঁর ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বর্তমান জীবন ও শারীরিক পরিস্থিতি।
ভিডিওতে কাম্বলি নিজেই যে স্নেহ, যত্ন এবং পরিষেবার কথা বলেছেন, সেটিই আপাতত সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা। থানের ওই কেন্দ্রে তাঁর থাকার খবর সামনে আসার পর প্রাক্তন এই ভারতীয় তারকার সুস্থতা কামনা করছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ।
একসময় ভারতের ক্রিকেটে যাঁর ব্যাটে ছিল সম্ভাবনার ঝলক, সেই বিনোদ কাম্বলির বর্তমান জীবনযাত্রা তাই ফের নজর কেড়েছে ক্রিকেটমহলের।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান