Thursday, October 29, 2026
Duga Puja 2026
বাড়ি দেশ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই মহাকাশ ব্যবস্থার পক্ষে ভারতের বার্তা, ২০৪০-এর মধ্যে চাঁদে ভারতীয় পাঠানোর লক্ষ্য

নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই মহাকাশ ব্যবস্থার পক্ষে ভারতের বার্তা, ২০৪০-এর মধ্যে চাঁদে ভারতীয় পাঠানোর লক্ষ্য

নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই মহাকাশ ব্যবস্থার পক্ষে ভারতের বার্তা, ২০৪০-এর মধ্যে চাঁদে ভারতীয় পাঠানোর লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক আলোচনা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই মহাকাশ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সামিটে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের মহাকাশ নীতির মূল ভিত্তি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’। এই চেতনাকে এবার পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে মহাকাশেও পৌঁছে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাকাশ ক্রমশ আরও ব্যস্ত হয়ে উঠছে এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী দেশের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সংখ্যাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, স্বল্পমেয়াদি লাভের পরিবর্তে স্থায়িত্ব এবং বর্জনের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মহাকাশ মানুষের কল্পনাকে অনুপ্রাণিত করেছে। কিন্তু বর্তমানে মহাকাশ প্রযুক্তি পৃথিবীর মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু, কৃষি, সমুদ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনজীবন ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে মহাকাশ প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তাই মহাকাশের সম্ভাবনা কার্যত অসীম।

মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চন্দ্রযান-৩ অভিযানের মাধ্যমে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি সফল অবতরণকারী প্রথম দেশ হয়েছে। অন্যদিকে আদিত্য-এল১ সূর্যের নানা রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত বছর একজন ভারতীয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও পৌঁছেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করা এবং ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয়কে চাঁদে পাঠানো। তাঁর কথায়, মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির সুফল শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে পৌঁছে দেওয়াই দেশের মূল লক্ষ্য।

ইসরোর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎকর্ষ এবং সাশ্রয়ী মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে ইসরো বিশ্বজুড়ে প্রশংসা অর্জন করেছে। ইসরোর প্রযুক্তি কৃষক ও মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি আবহাওয়ার পূর্বাভাস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নেভিগেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দিয়ে চলেছে।

তিনি আরও জানান, ৩৪টি দেশের ৪৩০টিরও বেশি উপগ্রহ ভারতীয় রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। ইসরোর প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব শুধু ভারত নয়, বৃহত্তর বিশ্বেরও উপকারে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের অবদান, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একের পর এক সফল অভিযানের মাধ্যমে ইসরো নিজের আন্তর্জাতিক মর্যাদা তৈরি করেছে এবং মহাকাশযাত্রায় সক্ষম দেশগুলির তালিকায় ভারতকে গর্বের স্থান এনে দিয়েছে।

মহাকাশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাকাশ যেন প্রতিযোগিতা ও সংঘাতের ক্ষেত্র না হয়ে মানবজাতির সম্মিলিত অগ্রগতির ক্ষেত্র হয়ে ওঠে—এটাই ভারতের প্রত্যাশা।

Santosh Paul
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha