ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার সাংবিধানিক সময়সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ শীর্ষ আদালতের; ২৪ ঘণ্টার বেশি বেআইনি আটক হলে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ।
কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো বাধ্যতামূলক। তবে এই সময়সীমার হিসাব শুরু হবে পুলিশের নথিতে গ্রেফতার দেখানোর সময় থেকে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাধীনতা খর্ব করে বাস্তবে আটক করার মুহূর্ত থেকে। এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চ জানায়, কোনও ব্যক্তিকে প্রকৃতপক্ষে আটক করার দিন ও সময় থেকেই ২৪ ঘণ্টার হিসাব শুরু হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার নথিভুক্ত করার সময়কে এই সময়সীমার সূচনা হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
ত্রিপুরা হাইকোর্টের একটি জামিনের আবেদন খারিজের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে চার ব্যক্তির দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ আইন (NDPS Act)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
শুনানিতে বিচারপতি ভূঞার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তকরণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের সময় থেকে ২৪ ঘণ্টার হিসাব শুরু হবে—এমন যুক্তি আইনসম্মত নয়। আদালতের মতে, আটক এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের মধ্যে পার্থক্য করে সাংবিধানিক সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।
শীর্ষ আদালত আরও জানায়, ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা না হলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
এই রায়ে গ্রেফতার ও আটক সংক্রান্ত সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে বার্তা দেওয়া হল, গ্রেফতারের আনুষ্ঠানিক নথিভুক্তির সময় দেখিয়ে প্রকৃত আটকের সময়সীমা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান