স্পাইনাল মাসকুলার এট্রফি (SMA) টাইপ-১-এর মতো বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত শিশু মনশ্রী চৌধুরীর চিকিৎসায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই ডিব্রুগড়ের আসাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শিশুটিকে Risdiplam ওষুধের ১২টি ভায়াল বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, রেয়ার ডিজিজ প্রোগ্রামের আওতায় দেওয়া এই ওষুধের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, মনশ্রীর বাবা ধ্রুব চৌধুরী গত জুন মাসে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপে’ কর্মসূচিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি তাঁর মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদন জানান। আবেদনের পর মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এরপর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ন্যাশনাল পলিসি ফর রেয়ার ডিজিজ, ২০২১-এর আওতায় চিহ্নিত বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত সেন্টারস অব এক্সিলেন্সের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
এই ব্যবস্থার আওতায় ইম্ফলের রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (RIMS), ডিব্রুগড়ের আসাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল এবং কলকাতার ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (IPGMER)-কে সেন্টারস অব এক্সিলেন্স হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরবর্তীতে মনশ্রীর বাবা-মা শিশুটিকে আসাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গত ২১ আগস্ট মনশ্রীকে Risdiplam ওষুধের ১২টি ভায়াল দেওয়া হয়।
শিশুটির চিকিৎসায় আরও সহায়তার জন্য টাটা ট্রাস্টের কাছ থেকেও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে এ সংক্রান্ত একটি শংসাপত্র প্রদান করেন। সেই ভিত্তিতে টাটা ট্রাস্ট মনশ্রীর চিকিৎসার জন্য ২০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে।
এদিকে, চলতি বছরের জুলাই মাসে মনশ্রীর বাবা-মা তাকে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ নিয়ে যান। সেখানেও শিশুটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, মনশ্রী চৌধুরীর বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। শিশুটিকে সর্বোত্তম সম্ভাব্য চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারের তরফে ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান