কানাডার স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ, থাকছে বিশেষ গঙ্গা আরতি; পূজার বাজেট ৩৫ লক্ষাধিক টাকা
মা আসছেন। আর মাকে বরণ করে নিতে ধীরে ধীরে উৎসবের সাজে সেজে উঠছে কুমারঘাট। শারদীয় দুর্গোৎসব যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা। এরই মধ্যে কুমারঘাটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সুভাষ সংঘ ক্লাবের দুর্গাপূজাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি।
এবার ৪৮তম বর্ষে পদার্পণ করেছে সুভাষ সংঘের দুর্গোৎসব। বিশেষ এই বছরকে স্মরণীয় করে তুলতে নেওয়া হয়েছে একাধিক পরিকল্পনা। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, এবারের পূজার আনুমানিক বাজেট ৩৫ লক্ষ টাকারও বেশি।
এবারের পূজামণ্ডপ তৈরি হচ্ছে কানাডার স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে। মণ্ডপসজ্জায় নান্দনিকতা ও শিল্পকলার বিশেষ সমন্বয় থাকছে। পাশাপাশি এবারের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে বিশেষ গঙ্গা আরতির আয়োজন।
প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন নবদ্বীপের শিল্পী রসরাজ পাল। তাঁর নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছেন দেবী দুর্গা। অন্যদিকে আলোকসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস এবং মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন কুমারেশ পাল।
পূজাকে কেন্দ্র করে পাঁচ দিন ধরে থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি। ১০ অক্টোবর মহালয়া উপলক্ষে বসে আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা।
দুর্গাপূজার পাশাপাশি সারা বছরই সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে সুভাষ সংঘ। রক্তদান শিবির, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছে ক্লাবটি।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুভাষ সংঘের সদস্যরা এবারের দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, বাজেট এবং বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
মণ্ডপ নির্মাণ থেকে প্রতিমা, আলোকসজ্জা থেকে বিশেষ গঙ্গা আরতি—সব মিলিয়ে ৪৮ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এবারও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কুমারঘাটের সুভাষ সংঘ।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান