পুজোর প্রাক্কালে দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তীব্র আর্থিক সংকট ও ক্ষোভের মুখে কৈলাসহরের আশা কর্মীরা। বারবার স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় সোমবার দুপুরে কৈলাসহরের রাজীব গান্ধী মহকুমা হাসপাতালের এসডিএমও-র (SDMO) দপ্তরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
আশা কর্মীরা এসডিএমও-কে ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে তাঁর চেম্বারে পৌঁছলেও সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট্যান্টের কাছে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। বিক্ষোভের মুখে অ্যাকাউন্ট্যান্ট আশ্বাস দেন, আগামী বুধবারের মধ্যে সমস্ত আশা কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেতনের টাকা জমা পড়বে।
আশা কর্মীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যতম প্রান্তিক কর্মী হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের দিয়ে সারা বছর নিরলসভাবে কাজ করানো হয়। অথচ মাসের শেষে নির্দিষ্ট সময়ে বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার গড়িমসি করা হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে বেতন না পেলেও তাঁরা প্রতিদিন নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
পুজোর মুখে বেতন না পাওয়ার কারণে তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আশা কর্মীদের বক্তব্য, উৎসবের সময় সমাজের অন্যান্য অংশের মানুষ নিজেদের পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের জন্য নতুন পোশাক কেনাকাটা করছেন। কিন্তু বেতন না মেলায় তাঁরা নিজেদের ও সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাকটুকুও কিনতে পারছেন না।
ক্ষুব্ধ আশা কর্মীদের আরও অভিযোগ, বারবার দপ্তরের আধিকারিকদের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবারই আজ বা কাল টাকা দেওয়ার আশ্বাস মিলছে, কিন্তু বাস্তবে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেতনের টাকা জমা পড়ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পেয়েও প্রতিদিন কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া আশা কর্মীরা এখন হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, আগামী বুধবারের মধ্যে বকেয়া বেতন অ্যাকাউন্টে জমা না পড়লে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এখন দেখার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া বুধবারের আশ্বাস অনুযায়ী বকেয়া বেতন মেলে কি না, নাকি কৈলাসহরে আশা কর্মীদের আন্দোলন আরও জোরদার হয়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান