উত্তর ত্রিপুরা জেলার প্রশাসনিক পরিকাঠামো ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন সংযোজন। সোমবার ধর্মনগরে নবনির্মিত জেলাশাসক ও সমাহর্তার কার্যালয়ের দ্বারোদ্ঘাটন করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। পাশাপাশি তাঁর হাত ধরে ভার্চুয়ালি ১৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৫০টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক পরিষেবা আরও সুসংহত করার উপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আধুনিক পরিকাঠামোয় নতুন জেলাশাসক কার্যালয়
উত্তর ত্রিপুরা জেলার নবনির্মিত জেলাশাসক কার্যালয়টি জি প্লাস থ্রি (G+3) ভবন। প্রায় ১,৭৫০ বর্গমিটার প্লিন্থ এরিয়ার এই ভবনে রয়েছে ৪৯টি কক্ষ, একটি কনফারেন্স হল, একটি মিটিং হল এবং একটি ভিডিও কনফারেন্স হল। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। নতুন এই কার্যালয়ের মাধ্যমে জেলার প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খেলাধুলা ও সড়ক যোগাযোগে জোর
ধর্মনগরে ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ‘গৌরীশঙ্কর রায় ইনডোর স্পোর্টস হল’। খেলাধুলার পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার প্রধান সড়ক সংস্কার ও নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে।
এছাড়া উত্তর ত্রিপুরা জেলায় দীর্ঘদিনের পুনর্বাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জাতীয় স্তরে উত্তর ত্রিপুরার স্বীকৃতি
উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জাতীয় স্তরে উত্তর ত্রিপুরা জেলার সাফল্যের বিষয়টিও উঠে আসে। ২০২৬ সালে ‘পিএম জনমন’ প্রকল্পে উত্তর ত্রিপুরা দেশজুড়ে সেরা পারফর্মিং জেলা হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া ‘জল সঞ্চয় জন ভাগীদারী’ প্রকল্পে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পাহাড়ি রাজ্যগুলির বিভাগে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে জেলাটি। জেলার ভাংমুন গ্রামে প্রতিটি বাড়ি ও সরকারি ভবনে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উন্নয়নেও উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে ধর্মনগর পুরপরিষদের অধীনে আটজনের হাতে ওয়ার্ড সেক্রেটারি পদের নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিদ্যালয়গুলিতে ‘হর হাত হুনার’ কর্মসূচির ভিত্তিতে বড়ুয়াকান্দি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়কে প্রথম, বড়গোল উচ্চবিদ্যালয়কে দ্বিতীয় এবং ক্ষুদ্রাকান্দি উচ্চবিদ্যালয়কে তৃতীয় স্থান অধিকার করার জন্য পুরস্কৃত করা হয়।
গ্রামীণ উন্নয়ন, পানীয়জল, স্বাস্থ্যবিধি ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে টাটা ট্রাস্টের একটি সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ব্লকে ‘স্বচ্ছতা ভেহিকেল’ পরিষেবাও চালু করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক পরিকাঠামো, সড়ক যোগাযোগ, খেলাধুলা, পুনর্বাসন এবং গ্রামীণ উন্নয়নকে কেন্দ্র করে উত্তর ত্রিপুরা জেলায় একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন জেলার সাধারণ মানুষের পরিষেবা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান