আদালতের পরামর্শ, ভবিষ্যতে উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। আগরতলায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর দেওয়া কথিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে উসকানিমূলক বা বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করার পরামর্শ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
মঙ্গলবার বিচারপতি টি. অমরনাথ গৌড় এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের ডিভিশন বেঞ্চ মানিক সরকারের আবেদন শুনে এই সিদ্ধান্ত জানায়।
মামলার সূত্রপাত গত ১০ আগস্ট আগরতলায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মানিক সরকারের দেওয়া কথিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবীর রায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে ১৬ আগস্ট পশ্চিম আগরতলা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ১৯২, ৩৫৩(১)(বি) এবং ৬১(১) ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে উত্থাপিত ১১ দফা দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মানিক সরকার। অভিযোগে আরও বলা হয়, তাঁর বক্তব্যে ব্যবহৃত একটি বাংলা শব্দবন্ধ আন্দোলনকে উগ্র রূপ দেওয়ার আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যা থেকে সহিংসতা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বক্তব্যের ভুল অনুবাদ করা হয়েছে এবং মূল প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষক সংগঠন এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের ডাকা দেশব্যাপী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ওই বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল।
আদালত মানিক সরকারের করা এফআইআর বাতিলের আবেদন খারিজ করে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে তাঁর বয়স এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আদালত জানায়, তিনি উপযুক্ত নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারেন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত সাপেক্ষে সেই আবেদন বিবেচনা করা হবে।
এই মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশ রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে মামলার তদন্ত এখনও চলমান থাকায় অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের আইনি পরিণতি নির্ধারিত হবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান