আয়ুর্বেদের সংরক্ষণ ও প্রসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাজ্য সরকার, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে আরও এক পদক্ষেপ
প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতির সমৃদ্ধ জ্ঞান ও ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কল্যাণে কাজে লাগাতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধু প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রেই নয়, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও আয়ুর্বেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বুধবার উদয়পুরের চন্দ্রপুর এলাকায় দ্বিতল বিশিষ্ট ৬০ শয্যার সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ ও হাসপাতালের উদ্বোধন করে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেশের প্রাচীন চিকিৎসার ধারা যাতে হারিয়ে না যায়, সেই লক্ষ্যে আয়ুষ মন্ত্রক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আয়ুর্বেদকে দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর সংরক্ষণ, প্রসার ও বিকাশের ওপর জোর দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই হাসপাতালের উদ্বোধন ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে রাজ্যে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পরিষেবার পরিধি বাড়বে। পাশাপাশি, আয়ুর্বেদ নিয়ে পড়াশোনা করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যক্ষেত্রকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে কাজ করছে। এই ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না। বর্তমান সরকারের আমলে একাধিক জটিল রোগের চিকিৎসা রাজ্যেই সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য যাতে রাজ্যের মানুষকে অন্য রাজ্যে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে বহিরাজ্যে রোগী রেফার করার সংখ্যাও অনেকটা কমেছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনার সুযোগও বেড়েছে। আগে মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য রাজ্যের বহু ছাত্রছাত্রীকে অন্য রাজ্যে যেতে হতো। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। অ্যালোপ্যাথির পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার সুযোগ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেও রাজ্য সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় বলেন, এই কলেজ ও হাসপাতালকে রক্ষা করা এবং এর উন্নয়নে এলাকাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে ছাত্রছাত্রীরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রবেশ করলে তার সুফল রাজ্যের মানুষই পাবেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সহ সমস্ত ক্ষেত্রের উন্নয়নে রাজ্য সরকার সচেষ্ট বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু লাথের এবং ত্রিপুরা আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার গোস্বামী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ই-গার্ভেজ কর্মসূচির অধীনে ৪০টি গাড়ির চাবিও মাতাবাড়ি ব্লকের বিডিওর হাতে তুলে দেন।
সব মিলিয়ে, চন্দ্রপুরে নতুন সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ ও হাসপাতালের উদ্বোধন ত্রিপুরায় বিকল্প চিকিৎসা পরিষেবার প্রসার, চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং রাজ্যের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান