ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে নতুন গতি, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার উপস্থিতিতে হাপানিয়ায় নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান
রাজ্যের বিদ্যালয় শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকার শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল ত্রিপুরা সরকার। বুধবার হাপানিয়ার আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোট ১,৪৫২ জন স্নাতক শিক্ষককে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
নিয়োগপত্র প্রাপকদের মধ্যে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য ৭৬৬ জন স্নাতক শিক্ষক এবং নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৬৮৬ জন স্নাতক শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ ধর্মরাও রামটেকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসসিইআরটি, ত্রিপুরার অধিকর্তা লালনুনেমি ডারলং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও বুনিয়াদি শিক্ষা অধিকর্তা ড. সমিত রায় চৌধুরী।
রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের ধারাবাহিক উদ্যোগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টিচার এলিজিবিলিটি টেস্টের মাধ্যমে বুনিয়াদি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে মোট ৪,৮৭৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩,৭৭৫ জন ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির স্নাতক শিক্ষক এবং ১,১০৪ জন প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১,৪৭১ জন নবম ও দশম শ্রেণির স্নাতক শিক্ষক, ১,৪১২ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষক, ১৪৫ জন বিশেষ শিক্ষাবিদ এবং ১১৭ জন স্কুল গ্রন্থাগারিক নিয়োগ করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল বিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করা। শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান