নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ, হিংসার ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্তত ২,৪০০ জন; জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর আশ্বাস
প্যারিস: ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিংসা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে অশান্তির ঘটনায় অন্তত ২,৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক পৌরসভা ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি, কয়েকশো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলে খবর।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসে প্রাসাদের তরফে জানানো হয়েছে, গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু চলমান সংকটের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি ম্যাক্রোঁ।
একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে ঘাটতিগুলি হিংসার পরিস্থিতি তৈরি করতে সাহায্য করেছে, সেগুলি সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন আন্দোলনকারীর আহ্বানে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে আয়োজিত অধিকাংশ শান্তিপূর্ণ মিছিলে প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। অন্যদিকে, আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লক্ষ।
রবিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের আড়ালে সংঘটিত হিংসা ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষোভ ও লজ্জা প্রকাশ করেন ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান তিনি। হিংসার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
দেশজুড়ে চলা এই অস্থিরতার মধ্যে একদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগের সমাধান—এই দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে ফরাসি প্রশাসন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান