জাপানে ভারতীয় প্যারা অ্যাথলিটদের একের পর এক পদক জয়, রেকর্ড গড়ে সোনা জিতলেন প্রবীণ কুমার ও সচিন খিলারি।
এশিয়ান প্যারা গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের পদক জয়ের ধারা অব্যাহত। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় পুরুষদের শট পুট F46 বিভাগে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ—তিনটি পদকই জিতে নজির গড়েছে ভারত। সচিন সারজেরাও খিলারি, মহম্মদ ইয়াসের এবং প্রবীণ যথাক্রমে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।
শট পুট F46 বিভাগে সচিন খিলারি ১৫.৮৭ মিটার দূরত্বে শট পুট করে রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। মহম্মদ ইয়াসের ১৫.০৬ মিটার থ্রো করে রুপো এবং প্রবীণ ১৪.৯৪ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। তিন ভারতীয় অ্যাথলিটই মরশুমের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরেন।
পুরুষদের হাইজাম্প T44/64 বিভাগেও ভারতের সাফল্য এসেছে। প্রবীণ কুমার ২.০৫ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করে গেমস রেকর্ড-সহ সোনা জিতেছেন। একই ইভেন্টে বান্টি ১.৯২ মিটার অতিক্রম করে নিজের ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রুপো জয় করেন। উজবেকিস্তানের তেমুরবেক গিয়াজভ ১.৮৬ মিটার অতিক্রম করে ব্রোঞ্জ পদক পান।
পুরুষদের শট পুট F53 বিভাগে সোনা জিতে নিজের পদকসংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন আয়ুষ ভার্মা। পঞ্চম প্রচেষ্টায় ৮.১৬ মিটার দূরত্বে শট পুট করে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। ইরানের আলিরেজা হেমামি ৮.০৯ মিটার থ্রো করে রুপো এবং কাজাখস্তানের মাখামবেত সেরিক্কালিয়েভ ৬.৮১ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ জেতেন।
F53 বিভাগে এমন অ্যাথলিটরা অংশ নেন, যাঁদের শরীরের ধড় ও পায়ের নড়াচড়া উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত এবং হাতের মুঠির কার্যক্ষমতাও প্রভাবিত হতে পারে।
মহিলাদের কম্পাউন্ড ডাবলস তিরন্দাজির ফাইনালে রুপো জিতেছেন ভারতের শীতল দেবী ও পায়েল নাগ। ফাইনালে চিনের জু শুয়েচিং ও ঝাও জিংয়ের কাছে ১৪১-১৫০ ব্যবধানে পরাজিত হন ভারতীয় জুটি।
জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন শীতল দেবী এবং চারটি অঙ্গের প্রতিবন্ধকতা থাকা পায়েল নাগের এই সাফল্য ভারতের প্যারা তিরন্দাজিতে আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এর আগে গত আসরেও শীতল দেবী সরিতা দেবীর সঙ্গে জুটি বেঁধে এই ইভেন্টে রুপো জিতেছিলেন।
পুরুষদের ১০০ মিটার T35 বিভাগে ১২.৭২ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন অনুভব চৌধুরী। অন্যদিকে, পুরুষদের ১০০ মিটার T37 বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন রাকেশভাই ভাট।
এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারতীয় অ্যাথলিটদের এই ধারাবাহিক সাফল্য দেশের প্যারা ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা, অধ্যবসায় ও প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান