ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার বার্তা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র প্রযুক্তির উপর নির্ভর করবে না, বরং সেই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং একে অপরের প্রতি আস্থার উপর নির্ভর করবে। এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে ভারত প্রস্তুত।
নয়াদিল্লিতে ইন্দো-প্যাসিফিক রিজিওনাল ডায়ালগের স্মারক অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারতের সামুদ্রিক দায়িত্ব দেশের উপকূলসীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারত বরাবরই একটি অবাধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতিভিত্তিক সামুদ্রিক ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে দেশের সামুদ্রিক ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতের লক্ষ্য শুধুমাত্র বাণিজ্য সম্প্রসারণ কিংবা নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, বরং একটি সুসংহত সামুদ্রিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
এদিন বন্দর পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রাজনাথ সিং। সাগরমালা প্রকল্পের মাধ্যমে বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন, আরও দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব বন্দর গড়ে তোলা, উপকূলীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং সামুদ্রিক শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করার উপর জোর দেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতের MAHASAGAR (Mutual and Holistic Advancement for Security and Growth Across Regions) নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই কোনও একটি দেশের পক্ষে এককভাবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে গবেষণা, শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন তিনি। রাজনাথ সিং বলেন, একটি দেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার উন্নয়ন সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।
পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতাও বজায় রাখতে হবে। সমুদ্রকে অফুরন্ত সম্পদের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। জাতীয় সমৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ পরস্পরের বিরোধী নয়, বরং এই দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার কথাই এদিনের বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান