রাজপথে বামেদের শক্তি প্রদর্শন, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি; যানজটে নাকাল আগরতলাবাসী
দফা দাবিতে চারটি বামপন্থী গণসংগঠন—CITU, সারা ভারত কৃষক সভা, ত্রিপুরা ক্ষেত মজদুর ইউনিয়ন এবং গণমুক্তি পরিষদের ডাকে আগরতলায় অনুষ্ঠিত হলো ‘জেল ভরো’ আন্দোলন। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সোমবার আগরতলা শহরের রাজপথে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিশাল মিছিলের জেরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।
আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন দাবি ও স্লোগান সামনে রেখে মিছিল করে পোস্ট অফিস চৌমুহনী এলাকার দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলের গতিরোধ করা হয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সাধারণ মানুষ ও পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আসন্ন ভিলেজ পঞ্চায়েত ও নগর নির্বাচনের আগে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করার পাশাপাশি বিদ্যুতের বিল-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে বামেরা।
আন্দোলন মঞ্চ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বাম নেতা মানিক সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বাধা সৃষ্টি করে আন্দোলন দমন করা সম্ভব নয়। মানুষের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে এভাবে থামানো যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, শুধু আগরতলাতেই নয়, রাজ্যের ২০টিরও বেশি স্থানে শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষ তাঁদের ন্যায্য দাবির পক্ষে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ১১ দফা দাবিতে বামেদের ‘জেল ভরো’ কর্মসূচিকে ঘিরে একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে, অন্যদিকে আন্দোলনের জেরে আগরতলা শহরের জনজীবনও ব্যাহত হয়েছে। আগামী দিনে এই কর্মসূচি ত্রিপুরার রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান