ত্রিপুরা এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে সোমবার খোয়াই জেলার চাম্পাহাওরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় আগরতলার জিবি পন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তিপ্রা মথা কর্মী মোটিলাল সরকারের।
তুলাশিখার আরডি ব্লকের চাম্পাহাওর বাজার সংলগ্ন ভারত সর্দার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে চলছিল ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোটগণনা। অভিযোগ, গণনাকেন্দ্রের আশপাশে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সিপাইহাও এলাকায় খোয়াই-চাম্পাহাওর সড়কে গাছ কেটে ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়। চৌমুহনী বাজার এলাকাতেও রাস্তা অবরোধের অভিযোগ ওঠে। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এরপর গণনাকেন্দ্রের বাইরে তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় মোটিলাল সরকার মাথায় গুরুতর আঘাত পান। প্রথমে তাঁকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আগরতলার জিবি পন্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। মৃতের স্ত্রী দাবি করেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে পুলিশি লাঠিচার্জের সময় তাঁর স্বামী আহত হন। তবে কীভাবে এবং কার আঘাতে মোটিলাল সরকার গুরুতর আহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
ঘটনা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহাকেও অবহিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চাম্পাহাওরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইট-পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই সময়ই তিপ্রা মথার কর্মী গুরুতর আহত হন বলে তাঁর বক্তব্য।
এদিকে, পরবর্তী পর্যায়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলতি ও বিভিন্ন বস্তু ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় ডিএসপি অর্ঘ্যদীপ লস্করসহ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও TSR জওয়ান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মোটিলাল সরকারের মৃত্যু এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় চাম্পাহাওরের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গোটা ঘটনার ধারাবাহিকতা, মোটিলাল সরকারের আঘাত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিল—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
ভোটগণনা চলাকালীন যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য চাম্পাহাওর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান