মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়, জীবন-জীবিকার নানা সমস্যা সমাধান এবং মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির হাতে জলাশয় হস্তান্তরের দাবিতে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা মৎস্যজীবীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানান।
সেমিনারে স্থানীয়ভাবে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যজীবীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, মৎস্যজীবীদের জীবিকা সুরক্ষিত করতে হলে জলাশয়ের উপর তাঁদের অধিকার ও সমবায় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
প্রাক্তন বাম বিধায়ক সুধন দাস তাঁর বক্তব্যে রাজ্যে মৎস্য উৎপাদনে এখনও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, প্রতি বছর প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মাছ অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্য থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এর ফলে বিপুল অর্থ রাজ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডুম্বুর ও রুদ্রসাগরের মতো বড় জলাশয়গুলিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বর্তমান সরকারের নীতির সমালোচনা করে তিনি মৎস্যজীবী ও তফসিলি জনগোষ্ঠীর স্বার্থে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
সেমিনারে বক্তারা ত্রিপুরাকে মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান। তাঁদের দাবি, জলাশয়গুলি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির হাতে তুলে দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীবিকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান