টেট-১ ও টেট-২ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল ত্রিপুরায়। রাজ্যের মোট ১,৮৫৬ জন টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীকে একসঙ্গে নিয়োগের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তবে নির্ধারিত কর্মসূচির জন্য পূর্বানুমতি না থাকায় টাউন হলের সামনে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয় পুলিশ।
আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। অথচ টেট উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, নিজেদের দাবি নিয়ে একাধিকবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও তাঁরা সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। ফলে বাধ্য হয়েই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি পালন করতে এগিয়ে গেলে টাউন হলের সামনে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির জন্য কোনও পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং প্রক্রিয়াগত কারণেই আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়েছে।
পুলিশি হস্তক্ষেপের পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে চেয়েছিলেন। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি তাঁদের উদ্দেশ্য নয় বলেও দাবি করেন তাঁরা।
অন্যদিকে, টেট উত্তীর্ণদের সকলকে একসঙ্গে নিয়োগের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সব প্রার্থীকে একসঙ্গে নিয়োগ করা হবে না। রাজ্যে বিদ্যমান শূন্যপদ অনুযায়ী প্রাক-তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, যখন রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, তখন টেট উত্তীর্ণ ১,৮৫৬ জনকেই একযোগে নিয়োগ করা উচিত।
ফলে একদিকে দ্রুত ও একযোগে নিয়োগের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, অন্যদিকে শূন্যপদ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিয়োগের সরকারি অবস্থান—এই টানাপোড়েনে টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। আগামী দিনে এই ইস্যুতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান