ত্রিপুরায় ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর আগরতলায় অনুষ্ঠিত সারা ভারত কৃষক সভা (AIKS)-এর রাজ্য সম্মেলন। এই রাজ্য সম্মেলনের অঙ্গ হিসেবেই স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান, অর্থাৎ আস্তাবল ময়দানে আয়োজন করা হয় প্রকাশ্য সমাবেশের। সমাবেশে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, কর্মসংস্থান এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
AIKS-এর রাজ্য সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় নেতা হান্নান মোল্লা। বক্তব্যের শুরু থেকেই তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আরএসএস-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
হান্নান মোল্লার অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কমিশনের স্বাধীনতা ক্রমশ খর্ব করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি তুলে ধরে হান্নান মোল্লা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বহু সাধারণ ও সংখ্যালঘু নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর ফলে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেশের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেন AIKS-এর এই প্রকাশ্য সমাবেশের বক্তা। তাঁর বক্তব্য, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
দেশে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী কাজের সন্ধানে রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কেন্দ্রের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিভিন্ন সর্বভারতীয় ও রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও হান্নান মোল্লার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনায় দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
AIKS-এর ত্রিপুরা রাজ্য সম্মেলনকে ঘিরে আয়োজিত এই প্রকাশ্য সমাবেশে সংগঠনের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক ইস্যুগুলিও সামনে আসে। ভিলেজ কমিটি নির্বাচন ঘোষণার পর ত্রিপুরায় রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে এই রাজ্য সম্মেলন ও প্রকাশ্য সমাবেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বাম শিবির।
সমাবেশ থেকে কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা বজায় রাখার দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান