১ অক্টোবর থেকে কার্যকর, এইচআরএ ৮ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশ; বছরে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৪৪২ কোটি টাকা
রাজ্য সরকারের কর্মচারী ও পেনশনারদের জন্য আরও ৩ শতাংশ ডিএ-ডিআর এবং নিয়মিত সরকারি কর্মচারীদের হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স (এইচআরএ) বেসিক পে-র ১০ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। মঙ্গলবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত ৩ শতাংশ ডিএ-ডিআর কার্যকর হলে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের মোট মহার্ঘ ভাতা বেড়ে ৪৪ শতাংশ হবে। বর্ধিত ডিএ-ডিআর আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে রাজ্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-ডিআরের ব্যবধান কমে ১৬ শতাংশ হবে।
নিয়মিত সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এইচআরএ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বেসিক পে-র ৮ শতাংশ হারে থাকা এইচআরএ বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১৪১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। পাশাপাশি এইচআরএ-র সর্বোচ্চ সীমা ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। বর্ধিত এই হারও ১ অক্টোবর থেকেই কার্যকর হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের বেতন কাঠামো উন্নত করতে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.২৫ থেকে বাড়িয়ে ২.৫৭ করা হয়েছে। এর ফলে বেসিক পে প্রায় ১৪.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ডিএ-ডিআরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮ শতাংশ ডিএ-ডিআর বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে কর্মচারীদের স্বার্থে আগামী দিনেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। অষ্টম বেতন কমিশনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্য সরকারও বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মচারীদের স্বার্থ এবং রাজ্যের আর্থিক অবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কর্মচারীদের ছুটির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সংশোধিত ব্যবস্থায় ২৮৫ দিনের বেশি কিন্তু ৩০০ দিন বা তার কম আর্নড লিভ থাকলে পরবর্তী ১৫ দিনের অগ্রিম ছুটি আলাদাভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে কর্মচারীদের অর্জিত ছুটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমবে বলে জানানো হয়।
দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-জট নিরসনে পদোন্নতি নীতি, ২০২১-এর মাধ্যমে অ্যাডহক পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শর্তসাপেক্ষে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই নীতিতে অ্যাডহক পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট তারিখ থেকে সার্ভিস ও অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে নিয়মিত পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এছাড়াও মহিলাদের সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু এবং ডাই-ইন-হারনেস ব্যবস্থাকে আরও সুচারু করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সিভিল সার্ভিস আধিকারিকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিপার্ডের মাধ্যমে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইআইএম কলকাতা ও বিপার্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান