অধর্মের ওপর ধর্মের, অসত্যের ওপর সত্যের এবং অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা নিয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরায় পালিত হলো দশেরা উৎসব। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
অধর্মের ওপর ধর্মের জয়, অসত্যের ওপর সত্যের জয় এবং অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তাকে সামনে রেখে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজারে অনুষ্ঠিত হলো রাবণ বধ অনুষ্ঠান। শান্তিরবাজার মহকুমা দশেরা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে শান্তিরবাজার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাবণ বধকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক, শান্তিরবাজারের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, বাইখোড়া ইসকন মন্দিরের কার্তিক মাধব প্রভু, শান্তিরবাজার পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপ্না বৈদ্য, ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, বিশিষ্ট সমাজসেবক দেবাশীষ ভৌমিক ও সুমন দেবনাথ-সহ দশেরা উদযাপন কমিটির কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিমা ভৌমিক বলেন, দশেরা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি মানবজীবনের মহান আদর্শ ও চেতনার প্রতীক। অন্যায়, অত্যাচার ও অধর্মের শক্তি সাময়িকভাবে প্রভাব বিস্তার করলেও শেষ পর্যন্ত সত্য, ন্যায় ও ধর্মেরই জয় হয়। রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, এই পুণ্য তিথিতে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, রাবণ দহনের মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তরের অহংকার, লোভ ও ক্রোধের মতো নেতিবাচক প্রবৃত্তিকে দূর করার সংকল্প গ্রহণ করা হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে দেবলোক ও মর্ত্যলোকে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেবী দুর্গার এই রূপ মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি ও অনুপ্রেরণা জোগায়। বিজয়াদশমীর মূল তাৎপর্য হলো জীবনের সমস্ত নেতিবাচকতা পরিহার করে সত্য, ন্যায় ও সৎপথে এগিয়ে চলা।
অন্যদিকে, বাইখোড়া ইসকন মন্দিরের কার্তিক মাধব প্রভু তাঁর বক্তব্যে বলেন, মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্র দশমাথা বিশিষ্ট রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করে সীতামাতাকে উদ্ধার করেছিলেন। রাবণের পতন অহংকার ও অধর্মের বিনাশের প্রতীক। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দশেরা উপলক্ষে রাবণ দহন করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিজয়াদশমী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য নিয়ে পালিত হয়। কোথাও রাবণ দহনের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ উদ্যাপন করা হয়, আবার কোথাও দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের স্মরণে উৎসব পালন করা হয়। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিজয়া দশমী মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করার বিশেষ উপলক্ষ।
শান্তিরবাজারে আয়োজিত এই দশেরা উৎসবের মধ্য দিয়ে ধর্ম, সত্য, ন্যায় ও শুভ শক্তির জয়ের বার্তা তুলে ধরা হয়। রাবণ বধের প্রতীকী তাৎপর্য মানুষের মধ্যে অন্যায় ও অশুভ প্রবৃত্তি পরিহার করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা জোগায়। ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে অনুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শকদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান