তিপরা ইয়ুথ ও স্টুডেন্টদের অভিযোগের পর মামলা, দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার অভিযুক্ত; তদন্তে দিল্লিতে ত্রিপুরা পুলিশের দল
সামাজিক মাধ্যমে ত্রিপুরার এক যুবককে উদ্দেশ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে কন্টেন্ট ক্রিয়েটার আমির শোকিনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা পুলিশের সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনায় আগরতলার এনসিসি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশও এই বিষয়ে পৃথক মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছে ত্রিপুরা পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ওই ভিডিওতে ত্রিপুরার এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামনে আসার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি ওঠে। তিপরা ইয়ুথ ও স্টুডেন্টদের পক্ষ থেকেও বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে।
ত্রিপুরা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আগরতলার এনসিসি থানায় 2026NCC088 নম্বর মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় এই মামলা দায়ের হয়েছে। একই ঘটনায় দিল্লি পুলিশও মামলা রুজু করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ত্রিপুরা পুলিশ দিল্লি পুলিশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিশেষ পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে। এরপর দিল্লি পুলিশ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটার আমির শোকিনকে গ্রেফতার করে।
অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর ঘটনার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য ত্রিপুরা পুলিশের একটি দল দিল্লিতে রয়েছে। অভিযুক্তকে ত্রিপুরায় নিয়ে আসার জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, ত্রিপুরার যুবককে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগের পর মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার যুবকদের প্রতি বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
সামাজিক মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান