Tuesday, September 15, 2026
Greetings: 15th August
বাড়ি রাজ্য ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর ত্রিপুরায় ‘সেবা সংকল্প অভিযান’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর ত্রিপুরায় ‘সেবা সংকল্প অভিযান’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর ত্রিপুরায় ‘সেবা সংকল্প অভিযান’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং এর আগে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির নিরবচ্ছিন্ন জনসেবার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ত্রিপুরায় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত একমাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ আয়োজন করা হবে। ‘জন সেবা হি প্রভু সেবা’ মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

রবিবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। তিনি বলেন, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জনসেবা ও জনকল্যাণের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রিপুরাতেও এই উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সেবা, সুশাসন এবং দরিদ্র মানুষের কল্যাণ প্রধানমন্ত্রীর শাসনদর্শনের অন্যতম ভিত্তি। সরকারি প্রকল্পের সুফল যাতে সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।

একাধিক কর্মসূচি

‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’, ‘মেরে স্বপ্নোঁ কা ভারত চিত্র সেবা’, ‘নমো সেবা আনকাহি কাহানিয়াঁ’, ‘অঙ্গন মিলন সেবা’, ‘সেবা কি কাহানি’, ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’, ‘সেবা মেরি যোগদান’, ‘সেবা সেতু অভিযান’, ‘সেবা কে রং, রাষ্ট্র কে সং’, ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’, ‘সুশাসন সংবাদ’ এবং ‘ভাদনগর-বারাণসী সেবা যাত্রা’-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

অভিযানের সামগ্রিক সমন্বয়ের জন্য অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়কে নোডাল মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় সংশ্লিষ্ট অভিভাবক মন্ত্রীরা কর্মসূচির তদারকি করবেন। এছাড়া বিধায়ক ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও কর্মসূচি সফল করতে অংশ নেবেন।

১৭ সেপ্টেম্বর ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’

অভিযানের সূচনায় ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো হবে। এজন্য ৬ লক্ষেরও বেশি প্রদীপের ব্যবস্থা করা হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি প্রদীপ ন্যায্যমূল্যের দোকান, পঞ্চায়েত অফিস ও আরোগ্য মন্দিরের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

একই দিন ‘সেবা দিবস’ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে। আগরতলার উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, জগন্নাথ দিঘি ও লক্ষ্মী নারায়ণ দিঘির পাড়, উদয়পুরের মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির, ধর্মনগরের কালী বাড়ি দিঘি, সোনামুড়ার নীরমহল এবং কৈলাশহরের ঊনকোটি কলাক্ষেত্র প্রাঙ্গণেও বিশেষ কর্মসূচি থাকবে।

৪,৯৪৫টি স্কুলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

‘মেরে স্বপ্নোঁ কা ভারত চিত্র সেবা’ কর্মসূচির আওতায় ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের ৪,৯৪৫টি স্কুলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ‘বিকশিত ভারত সংকল্প—প্রধানমন্ত্রী মোদির ২৫ বছরের সেবাকার্য’ থাকবে প্রতিযোগিতার মূল বিষয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তৃতা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হবে।

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ

‘অঙ্গন মিলন সেবা’ কর্মসূচির আওতায় রাজ্যের ১০,৪৭৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিভিন্ন পরিষেবা ও সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করা হবে। বকেয়া সুবিধা প্রদান, মহিলাদের কল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে জানানো এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে আবেদন করতে সহায়তা করা হবে।

৮৫টি মেগা ক্যাম্প

‘সেবা সেতু অভিযান’-এর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দিতে ৮৫টি মেগা ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে ৫৮টি ব্লক সদর দপ্তর, ২০টি শহর এবং আগরতলার ৪টি জোনে ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাম্পগুলিতে অনলাইন আবেদন, তাৎক্ষণিক অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং সুবিধাভোগীদের মতামত গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে।

যুবসমাজের অংশগ্রহণে ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’

‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’-য় মশাল বহনকারী শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাইকেল ও বাইক র‍্যালি আয়োজন করা হবে। এই কর্মসূচি ১,১৯৩টি গ্রাম ও ২১টি শহর অতিক্রম করবে। যুবসমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার সম্মিলিত সংকল্পও নেওয়া হবে।

জনঅংশগ্রহণে সেবামূলক কাজ

‘সেবা মেরি যোগদান’ কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণ, রক্তদান, স্বচ্ছতা অভিযানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নাগরিকদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে ২৫টি ভিন্ন সেবামূলক বিষয়কে কেন্দ্র করে কর্মসূচি নেওয়া হবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তত দুটি স্থানে এই ধরনের কার্যক্রম হবে।

উদ্ভাবনে গুরুত্ব

‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা, সুশাসন, জনকল্যাণ, পরিচালনগত দক্ষতা এবং স্থানীয় উন্নয়নের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের জন্য স্টার্টআপ, শিক্ষার্থী, উদ্ভাবক, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলিকে ‘স্টার্টআপ ত্রিপুরা’ ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে ইনকিউবেশন, বিনিয়োগকারী সংযোগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া ‘সেবা কে রং, রাষ্ট্র কে সং’ কর্মসূচিতে বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় জনগণের অংশগ্রহণে বড় আকারের ‘হিউম্যান রঙ্গোলি’ তৈরি করা হবে। ‘জনসেবা সে হি রাষ্ট্রসেবা’ বার্তাকে সামনে রেখে এতে শিল্পী, মহিলা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, এনসিসি ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ থাকবে।

‘সুশাসন সংবাদ’ কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধি, যুবসমাজ, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সামাজিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সুশাসন ও দক্ষ জনসেবা নিয়ে মতবিনিময় করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, একমাসব্যাপী অভিযানের কর্মপরিকল্পনা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য সমস্ত সচিব ও জেলা শাসকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এই অভিযানের নোডাল দপ্তর হিসেবে কাজ করবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের সচিব অভিষেক সিং-ও উপস্থিত ছিলেন।

Santosh Paul
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha