ত্রিপুরার অর্থনীতিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আগর শিল্প। রাজ্যের মোট আগর উৎপাদনের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই হয় উত্তর ত্রিপুরা জেলায়। এই জেলায় রয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৩ লক্ষ আগর গাছ। আগর চাষ ও প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার পরিবার।
উত্তর ত্রিপুরার উত্তর ফুলবাড়ি গ্রামে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে আগরউড ক্লাস্টার প্রসেসিং সেন্টার তৈরির জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের আগর প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য, আগর শিল্পকে আরও সংগঠিত করে আন্তর্জাতিক বাজারে ত্রিপুরার অবস্থান শক্তিশালী করা। বর্তমান গতিপ্রকৃতি বজায় থাকলে আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে এই শিল্পের বার্ষিক লেনদেন প্রায় ২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আগরজাত পণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি চাষিদের সুবিধার জন্য আন্তঃফসল চাষে উৎসাহ, আগর পরিবহণ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন সহজ করা, টেকসইভাবে গাছ আহরণ এবং সুসংগঠিত বাজার সংযোগ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ত্রিপুরায় ইতিমধ্যেই আগর শিল্পের জন্য পৃথক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই নীতির মাধ্যমে চাষি, ব্যবসায়ী এবং প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে এনে আগরকে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান