যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও ব্যারিকেড ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ, আইনজীবীদের পেশাগত কাজেও বাধা দেওয়া যাবে না
শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়া মানুষকে যেন বেআইনিভাবে আটক করা না হয় এবং ট্রাফিক বিধি মেনে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়—এই মর্মে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লিতে ব্যারিকেড ব্যবস্থার পর্যালোচনা করার পাশাপাশি মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী চালু রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইন সাপেক্ষে ইন্টারনেট পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিষয়েও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আদালত জানিয়েছে, প্রচলিত আইন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুযায়ী মেট্রো এবং ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে আইনজীবীরা যাতে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনও বাধার সম্মুখীন না হন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদনকে কেন্দ্র করে এই নির্দেশ আসে। এ বিষয়ে কেন্দ্রকে নোটিস জারি করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। কোনও পক্ষের যাতে অযথা অসুবিধা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ১০ অক্টোবর দিল্লির মেট্রো নেটওয়ার্কের মোট ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৪৫টি স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
জাতীয় রাজধানীতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং গণপরিষেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, শান্তিপূর্ণ জমায়েত, সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। তবে এই সমস্ত কার্যক্রমই প্রযোজ্য আইন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং যান চলাচল সংক্রান্ত বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে। আদালত অবমাননার আবেদনগুলির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান