কৃষি দপ্তরে ১৩১ জন ও বিদ্যুৎ দপ্তরে ৮০ জনের নিয়োগ, স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে চাকরির আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
ত্রিপুরায় সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর এবং বিদ্যুৎ দপ্তরে মোট ২১১ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। কৃষি দপ্তরের এগ্রি অফিসার পদে ১৩১ জন এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা ম্যানেজার পদে ৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজ আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের ১৩১ জনের মধ্যে ৭০ জন পুরুষ এবং ৬১ জন মহিলা রয়েছেন। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ দপ্তরে নিয়োগপত্র পাওয়া ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন পুরুষ ও ২২ জন মহিলা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনও ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কিংবা পরিচিতির ভিত্তিতে নয়, বরং মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই চাকরি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি এবং উন্নতমানের বীজ ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। কৃষকদের সুবিধার্থে প্রতিটি ব্লকে একটি করে কৃষি মহকুমা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যে ১ লক্ষ ৪৪ হাজারেরও বেশি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বিদ্যুৎ পরিষেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাব-স্টেশন, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইন, ট্রান্সফরমার এবং আধুনিক ক্যাবলিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী জনজাতি আদিবাসী ন্যায় মহা অভিযান বা পিএম-জনমন প্রকল্পের আওতায় বিশেষভাবে দুর্বল জনজাতি গোষ্ঠীভুক্ত (পিভিটিজি) রিয়াং পরিবারগুলির বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেডের (টিএসইসিএল) ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ বসু-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
কৃষি ও বিদ্যুৎ—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন নিয়োগের ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই রাজ্যের পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান