রেপো রেট বেড়ে ৫.৫০ শতাংশ, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৭.১ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস রিজার্ভ ব্যাঙ্কের।
মুম্বই, ২১ অক্টোবর: দেশে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধির সময়কাল ও পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। বুধবার প্রকাশিত আরবিআইয়ের মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এই অবস্থানের কথা উঠে এসেছে।
গত ৫ থেকে ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে ছয় সদস্যই সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করার পক্ষে ভোট দেন। প্রায় চার বছর পর এই প্রথম সুদের হার বাড়াল আরবিআই। এর আগে রেপো রেট ছিল ৫.২৫ শতাংশ।
গভর্নর মালহোত্রা জানান, ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি, অন্তর্নিহিত মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতি এবং পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ কতটা বিস্তৃত হচ্ছে, তা বিবেচনা করা হবে।
আরবিআইয়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেশি পণ্যের ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI)-এর অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলির মধ্যে আগস্ট মাসে ৩৭ শতাংশের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৪ শতাংশের বেশি। মার্চ মাসে এই অনুপাত ছিল ২০ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, মূল্যবৃদ্ধির চাপ আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় মুদ্রানীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের প্রকৃত মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আরবিআই। একই অর্থবর্ষে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার গড়ে ৫.২ শতাংশ থাকার অনুমান করা হয়েছে।
তবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এই পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা আরবিআইয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে ব্যাঙ্কগুলির ঋণের সুদের হারে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে রেপো-সংযুক্ত গৃহঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ ও অন্যান্য ভাসমান সুদের ঋণের ক্ষেত্রে ইএমআই বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে প্রতিটি ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত, ঋণের শর্ত এবং সুদের হার পুনর্নির্ধারণের সময়ের ওপর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, মূল্যবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী চাপের মধ্যে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি বজায় রাখাই এখন আরবিআইয়ের মুদ্রানীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান