২০২০ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে ৪৩০টি পদ—আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার দাবি প্রার্থীদের, দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় চাকরিপ্রার্থীরা।
দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভে সরগরম হয়ে উঠল জেআরবিটি (JRBT) বোর্ডের দপ্তর। ২০২০ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাকি থাকা ৪৩০টি টেকনিক্যাল পদে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন চাকরিপ্রার্থীরা। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও নিয়োগের বিষয়ে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখতে না পাওয়ায় তাঁরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে জেআরবিটির মাধ্যমে টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ২,৫০০টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, নন-টেকনিক্যাল পদে নিয়োগ সম্পন্ন হলেও ৪৩০টি টেকনিক্যাল পদে এখনও নিয়োগ বাকি রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই পদগুলিতে নিয়োগের অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে প্রার্থীদের মধ্যে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় পরীক্ষা ও নথিপত্র যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও টেকনিক্যাল বিভাগের প্রার্থীরা এখনও চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি। অন্যদিকে, নন-টেকনিক্যাল বিভাগের প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই কাজে যোগ দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। এই বৈষম্যের কারণেই তাঁদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে।
প্রার্থীদের আরও অভিযোগ, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ কার্যকর করতে দেরি করছে। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের আশায় অপেক্ষা করার পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের পথ বেছে নিয়েছেন।
তবে আদালতের নির্দেশের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু, নির্দেশ কার্যকরের সময়সীমা এবং সরকারের তরফে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, অবিলম্বে ৪৩০টি টেকনিক্যাল শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিয়োগের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এখন দেখার বিষয়, চাকরিপ্রার্থীদের এই বিক্ষোভের পর জেআরবিটি বোর্ড ও রাজ্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে সম্পন্ন হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অপেক্ষারত প্রার্থীরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান